পৃথিবীর ধারনা – দ্যা আর্থ (প্রথম অংশ)

পৃথিবী সূর্যথেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং সৌরজগতেরআটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। এটি সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহেরঅন্যতম। পৃথিবীর অপর নাম ” বিশ্ব” বা “নীলগ্রহ”। ইংরেজি ভাষায়পরিচিত আর্থ (Earth) নামে, গ্রিক ভাষায় পরিচিত গাইয়া নামে, লাতিন ভাষায়এই গ্রহের নাম ” টেরা (Terra)।
পৃথিবী হল মানুষসহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল। পৃথিবী এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র মহাজাগতিক স্থানযেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বিদিত। ৪৫৪ কোটি বছর আগে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল। এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে প্রাণের আবির্ভাবঘটে। পৃথিবীর জৈবমণ্ডলএই গ্রহের বায়ুমণ্ডলও অন্যান্য অজৈবিকঅবস্থাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বায়ুজীবী জীবজগতের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি ওজন স্তরগঠিত হয়েছে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রেরসঙ্গে একযোগে এই ওজন স্তরই ক্ষতিকর সৌর বিকিরণেরগতিরোধ করে গ্রহের বুকে প্রাণের বিকাশ ঘটার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদও এর ভূতাত্ত্বিকইতিহাস ও কক্ষপথ এই যুগে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আরও ৫০ কোটি বছর পৃথিবী প্রাণধারণের সহায়ক অবস্থায় থাকবে।
পৃথিবীর উপরিতলএকাধিক শক্ত স্তরে বিভক্ত। এগুলিকে ভূত্বকীয় পাতবলা হয়। কোটি কোটি বছর ধরেএগুলি পৃথিবীর উপরিতলে এসে জমা হয়েছে। পৃথিবীতলের প্রায় ৭১% লবণাক্ত জলের মহাসাগর দ্বারা আবৃত। অবশিষ্টাংশ গঠিত হয়েছে মহাদেশও অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে। স্থলভাগেও রয়েছে অজস্র হ্রদ ও জলের অন্যান্য উৎস। এগুলি নিয়েই গঠিত হয়েছে বিশ্বের জলভাগ। জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় তরল জল এই গ্রহের ভূত্বকের কোথাও সমভার অবস্থায়পাওয়া যায় না। পৃথিবীর মেরুদ্বয়সর্বদা কঠিন বরফ ( আন্টার্কটিকা বরফের চাদর) বা সামুদ্রিক বরফে( আর্কটিক বরফের টুপি) আবৃত থাকে। পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ সর্বদা ক্রিয়াশীল। এই অংশ গঠিত হয়েছে একটি আপেক্ষিকভাবে শক্ত ম্যান্টেলের মোটা স্তর, একটি তরল বহিঃকেন্দ্র(যা একটি চৌম্বকক্ষেত্র গঠন করে) এবং একটি শক্ত লৌহ অন্তঃকেন্দ্রনিয়ে গঠিত।

Roman Ahammed

আমি ৩ বার নীতিমালা ভঙ্গ করেছি

২ thoughts on “পৃথিবীর ধারনা – দ্যা আর্থ (প্রথম অংশ)

Leave a Reply