ট্রমা (চতুর্থ অংশ)

ট্রমা( চতুর্থ অংশ)

ট্রমার চিকিৎসা বা কৌশল সম্পর্কিত তথ্যঃ

ট্রমায় ভোগছে এমন ব্যক্তিকে সাধারণত কাউন্সেলর বিভিন্ন ভাবে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

কাউন্সেলর ক্লায়ন্টকে নানা ভবে সমস্যার সমাধান  দিয়ে থাকেন।এতে কাউন্সেলর মনোবৈজ্ঞানিক বিভিন্ন থেরাপি  দিয়ে থাকেন। যেমন জ্ঞানীয়  থেরাপি-এতে কাউন্সেলরগন নিম্নোক্ত কৌশল ব্যবহার করেনঃকরেনঃ

  •  উদ্বিগ্নতার সাথে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা শেখানো হয়
  • রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখানো হয়
  • নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তনে সাহায্য করা হয়
  • মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়
  • ভবিষ্যৎ ট্রমা উপসর্গ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করা হয়,
  • মাদকাশক্ত ও এর সঙে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবেলার কৌশল তুলে ধরা হয়,
  • রুলাক্সেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়

যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতাগুলো আয়ত্ত করানো হয়।

জ্ঞানীয় ও আচরণগত দৃষ্টিভঙিতে আরও কতগুলো কৌশল ব্যবহৃত হয় সেগুলো হলঃঅ্যাসেসম্যন্ট ও জ্ঞানীয় মূল্যায়ন,ট্রমা ঘটনার সঙে সম্পর্কিত বিশ্বাস ও চিন্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া;ক্লায়েন্টের চিন্তা বিশ্লেষ, ভ্রান্ত চিন্তা পরিবর্ত, জ্ঞানীয়    অনুশীলন,যাতে ক্লাশেন্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে;পর্যায়ক্রমিক অনুশীলন,নিরাপদ জায়গা প্রস্তুত করা,নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা।

এছাড়াও রয়েছে পর্যায়ক্রমিক চিকিৎসামূলক মডেল(a stage oriented treatment model):চু(১৯৯৮) পর্যায়ক্রমিক ট্রমা চিকিৎসা ব্যখ্যা করেছেন।এ মডেল   নিজের যত্ন   নেওয়া,ট্রমার  স্বীকৃতি,কার্যক্রমের  উন্নয়নে,প্রভাব প্রকাশ করা ও সম্পর্ক  স্থথাপনের   উপর জোর দেয়। এক্ষেত্রে “SAFER” শব্দ দিয় প্রকাশ করে।

S=Self-care(নিজের যত্ন নেওয়া)

A=Acknowledged(স্বীকৃতি)

F=Functioning(কর্মসম্পাদন)

E=Expression (প্রকাশ করা)

R= Relationship(সম্পর্ক)

এই পাঁচটি চিকিৎসকমূলক ধাপকে  প্রাথমিক,মাধ্যমিক ও শেষ পর্যায়ের এই তিনটি শ্রেণীবিভাগে পার্থক্য করা হয়েছেঃ

প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসাঃ

  1. নিজের যত্ন নেওয়া
  2. স্বীকার করা বা মেনে নেওয়া
  3. কার্যক্রম চলমান রাখা
  4. প্রকাশ করা
  5.  সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।

চিকিৎসার মধ্যবর্তী পর্যায়ঃক্লায়েন্ট প্রাথমিক পর্যায়ের কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসাশুরু করা হয়।ব্যাখ্যা করা ও প্রতিক্রিয়া করা এ পর্যায়ের প্রধান কাজ।

ক্লায়েন্ট এর মাধ্যমে তার শক্তি ফিরে পায়।যার ফলে সে অতীত ট্রমার ভয় থেকে মুক্ত থাকে।ফলে ক্লায়েন্ট তার সমস্যা বুঝতে পারে এবং তার দৈনন্দিন জীবনে তা মেনে চলতে সক্ষম হয়।

চিকিৎসার শেষ পর্যায়ঃ এতে ক্লায়েন্ট নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে।নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারে   ।

উপরিউক্ত কৌশলের মাধ্যমে ট্রমা গ্রস্থ ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।এতে উৎসাহীত করে ক্লায়েন্টকে পুনরায় জীবন পরিচালনায় সহায়তা করা যায়।এছাড়াও কাউন্সেলর নিম্নোক্ত তথ্য দিয়ে ক্লায়েন্টকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেন-

  1. একাকী না থাকা,
  2. সাহায্য চাওয়া,
  3. সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ,
  4. স্বেচ্ছায় অন্যকে সহায়তা করা,
  5. দৈনন্দিন রুটিনে অনঢ় থাকা,
  6. নিজের যত্ন নেওয়া,
  7. মদ ও নেশা জাতীয় দ্রব্য ত্যাগ করা,
  8. অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করা বা মেনে নেওয়া,
  9. রিলাক্সেশন কৌশল আয়ত্ব করা।

অতএব একজন ট্রমা গ্রস্থ ব্যক্তি একজন ভালো কাউন্ডেলরের মাধ্যমে সঠিক জীবন ব্যবস্থা অর্জন করে সহজ ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

এই ছিল ট্রমার চিকিৎসা সস্পর্কিত তথ্য.।

(সূত্রঃ  কাউন্সেলিং সাইকোলজি)

 

nispriho

আস্সালামুয়ালাইকুম। # Chittagong. #স্টুডেন্ট#ভালো লাগলেও জানান না লাগলেও কমেন্টে জানান#মানুষ মাত্রই ভুল#ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী 👧

৪ thoughts on “ট্রমা (চতুর্থ অংশ)

Leave a Reply