ফয়সাল

খুব খিদে পেয়েছে। কিন্তু কি খাব? ভাত খাব
না। খুব মোগলাই খাইতে ইচ্ছে করছে। সব গুল
প্যানটের পকেট আর বিছানার নিচে খুজে মোট
হয়েছে ৬৮ টাকা। এতেই হয়ে যাবে। দোকানে
গিয়ে,
-মোগলাই আছে?
-কয়টা?
-১ টাই।
-সিংগেল নাকি ডাবল?
-ডাবল কত?
-৫০ টেকা।
-আচ্ছা দেন।
-বসেন
আমি বসার আগে একটা ডিম চপ নিয়ে খেতে খেতে বসলাম।
-কেমন আছো?
(চেনা কন্ঠ।বাতাসে ভেসে ভেসে আসছে কিন্ত
থেমে থেমে। সুরের মত, কিন্তু বিদঘুটে সুর।) –
আরে ফয়সাল কি অবস্থা? ভাল আছো? বস।
না…. তুমি কেমন আছো?
-ভাল আছি।
-কি খাবা?
আমিতো মোগলাই খাব। তুমি?
আমি খামু না। আমি এই জায়গায় কাম করি(হাসতে হাসতে)
-ও। আর পড়াশোনা? -১ সাবজেক্টে।…. গনিত…. (এবার মুখে হাসি
ছিল কিন্তু না পারার হাসি।)
চারটা পুরি পারসেল। কথাটা শুনার পরই
ফয়সাল গেলো পুরি দিতে। আমি তখন ক্লাস নাইন এ ভর্তি হই। দুই বছর আগের কথা। প্রথম দিন ক্লাসে ফয়সাল আমার পাশে বসা। ঐ দিন ওর সাথে ভালমতো কথা বলিনি। কিন্তু আস্তে আস্তে কথা
বলতে বলতে আমি ওর বন্ধু হয়ে যাই। কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধু না। ছেলেটা ভালো। সারাদিন
হাসি খুশি থাকে। সবার সাথে মিশতে পারে।
কিন্তু ক্লাসের অনেকেই ওকে খ্যাপাতো,ওকে
নিয়ে মজা করতো। কিন্তু ও বুঝতো না,ও ও মজা পাইতো। ফয়সাল মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল।
পড়াশুনা ওর মাথায় ঢুকতো না। (ভাবতে ভাবতে
মোগলাই এর কথা ভুলেই
গিয়েছিলাম।কিন্তু ফয়সাল এসে ভাবনায়
ব্যাঘাত ঘটালো)
-এই যে মোগলাই।
-ধন্যবাদ।
( আমি খেতে শুরু করলাম। বুঝলাম ফয়সাল আমার
দিকে তাকিয়ে আছে।)
– কিছু বলবা ফয়সাল?
-তোমার নাম কি জানি?
-নীল। ভুইলা গেছো?
– না। নাদিম আহে এই জায়গায় খাইতে,কালকে
তানভির আইছিলো। জয় এর লগে প্রতিদিন দেখা
হয়। আর আজকে তুমি!!
(কথাটা বলে ও দ্রুত ওর কাজে চলে গেলো।
মনে হলো কি যেন একটা মনে পরে গেছে। আর আমি
খেতে খেতে আবার ভাবনায় দুবে গেলাম।
-পানি খাইবা না?
-ও হ্যাঁ, খাবো তো দাও।(পানির গ্লাস দুটো
রেখে চলে গেলো। আর আমি
খেতে থাকলাম।)
খাওয়া শেষ। নিজেই উঠে গিয়ে ফিলটার থেকে
পানি নিয়ে খেতে থাকলাম। আর পাশে ফয়সাল এসে দাঁড়ালো। ভাবলাম হয়তো কিছু বলতে চায়।
একবার জিজ্ঞাস করতে চাইলাম,কিন্তু বলবে
কিনা,কিছু আর জিজ্ঞাস করলাম না।
ক্যাশিয়ারকে বললাম,
-কতো হইলো?
-কি কি খাইসেন? -একটা ডবল ডিম আর মোগলাই, আর ৫ গ্লাস
পানি।(পাশে থেকে ফয়সাল বলে উঠল)
-না,
একটা ডিম চপ,একটা মোগলাই, চাইর গ্লাস
পানি। (ও তাইতো, আমি একটা ডিম চপ খায়েছি,কিন্তু
ও দেখলো কখন? আর পানি তো মনে হয় ৫ গ্লাস
খাইছি।)
-ফয়সাল পানি ৫ গ্লাস না?
-না, প্রথমে দুই গ্লাস দিছি আমি, তারপর দুই গ্লাস খাইছো….।
-ও, কতো হইলো?
-৬০ টাকা দেন!
(পাশে তাকিয়ে দেখি ফয়সাল নেই।ওকে আল্লাহ্
হাফেজ বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওকে দেখে
মনে হচ্ছে ও খুব ব্যস্ত। খুব মন দিয়ে নিজের কাজ করছে। মানসিক রোগী হওয়ার পরও এতো
মনোযোগ আর কর্মঠ!)

Sarwar

I'm student.

২ thoughts on “ফয়সাল

  • মার্চ ২১, ২০১৯ at ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    এরকম আমাদের অনেক বন্ধু, ক্লাসমেট আছে যাদের কাহিনী একই।

Leave a Reply