শর্ত দিয়ে আল্লাহ্‌র নিকট করুণা ভিক্ষা

আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন, যারা শর্ত দিয়ে আল্লাহ্‌র নিকট করুণা ভিক্ষা চায়।

যেমন আমরা বলি,

  • আম্মা কঠিন পীড়া থেকে সুস্থ হয়ে গেলে মাজারে একটা ছাগল দেব(মাজারে না দিয়ে কোন গরীব আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে দেয়াই উত্তম)
  • আব্বার বাৎসরিক ফাতেহা আসলে ২০ জন মিসকিন খাওয়াবো
  • মেয়ে পরীক্ষায় পাস করলে একটি রোজা রাখবো
  • ছেলের বিদেশের ভিসা আসলে এক খতম কুরআন পড়ব
  • স্বামী মামলায় খালাস পেলে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ব

যাকে প্রচলিত ভাষায় আমরা মানত বলি। এর মানে নিজের উপর এমন কিছু ওয়াজিব (আবশ্যিক) করে নেয়া যা আসলে ওয়াজিব ছিল না। সেটা শর্তযুক্তও হতে পারে আবার শর্ত মুক্তও হতে পারে। উলামায়ে কেরামগণের মধ্যে মানত জায়েয নাকি নাজায়েয সে ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। শক্তিশালী এবং কুরান-সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী মত হচ্ছে,

“মানত করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে সব সময় উম্মতদের নিরুৎসাহিত করেছেন। বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না। বরং মনে করি মানত করা খুব সওয়াবের কাজ। আসলে এটি কোনো সওয়াবের কাজ নয়। বরং মাকরূহ। অধিকাংশ ইমাম ও ফেকাহবিদের অভিমত এটাই। তবে যদি কেউ মানত করে ফেলে তাহলে তাকে তা পালন করতেই হবে। ”

নিচের হাদিসগুলো পড়লে, বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হবে ইনশাআল্লাহঃ

  1. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, মানত কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। তবে মানতের মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৫)
  2. ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানত কোনো কিছুকে আগেও করে না, পিছেও করে না। বরং এর দ্বারা কেবল কৃপণ ব্যক্তি থেকে বের করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৬, সহিহ সুনান নাসায়ি)
  3. ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, ‘মানত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এটা শুধু কৃপণ ব্যক্তি থেকে মাল খসায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৭, আহমাদ)
  4. আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মানত করবে না। কেননা মানত তাকদীরের কোনো কিছু-কে ফেরাতে পারে না। এটা শুধু কৃপণ থেকে সম্পদ খসায়।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম, হাদীস নং ৪৩২৯, সহিহ সুনান তিরমিজি, সহিহ সুনান নাসায়ি)
  5. আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যেই বস্তু মহান আল্লাহ আদম সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেননি মানত সেটি তার নিকটবর্তী করে না। বরং তাকদীরে যা আছে মানত সেটাই নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয় যা সে খরচ করতে চায়নি।’  (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩৩১)

আফসোস, মানত করে আল্লাহ’র সাথে আমরা কি ব্যবসা করি! বুঝা যায় আপনার মকসদ পূর্ণ হলেই উপরোক্ত নফল কাজগুলো করবেন, নাহলে করবেন না।

আচ্ছা, আল্লাহ’র এমন কি দায় পড়েছে, আপনার শর্ত মেনে নিয়ে আপনার আব্দার কবুল করার!

আপনি  মানত না করে এই কাজগুলো করতে পারেন…

একটি ছাগল গরীব মানুষকে দান করে

বা

২০ জন মিসকিনকে ১ বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়াইয়ে

অথবা

২-১টি রোজা রেখে

নতুবা

১ খতম কুরআন পড়ে

কিংবা

একাধিক রাকাত নফল নামাজ পড়ে

তারপর মহান আল্লাহ’র নিকট সেই নেক কাজের উসিলায় ফরিয়াদ জানাতে পারেন!

আপনি আল্লাহ কিংবা তাঁর বান্দাদের জন্য কিছু করলেন, মহান আল্লাহ্‌ কি আপনার জন্য করবেন না ? আপনার নেক আশা পূর্ণ করবেন না?

Mohiuddin

My name is Abu Sayem Mohammad Mohiuddin. I live in Chittagong. I'm a graduate person. I'm an Office coordinator at Jilani Air Travels.

২ thoughts on “শর্ত দিয়ে আল্লাহ্‌র নিকট করুণা ভিক্ষা

  • মার্চ ২১, ২০১৯ at ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    আপনার পোস্টগুলো আমার অনেক ভালো লাগে।

  • মার্চ ২১, ২০১৯ at ১২:৪২ অপরাহ্ণ
    Permalink

    @mareaz
    আপনাদের ভাল লাগা, সুন্দর কমেন্ট এবং সন্তুষ্টি আমাদের আরো ভালো লেখার উৎসাহ যোগায়। অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply