কুসংস্কারের আবদ্ধ জীবন

    কুসংস্কার


 কুসংস্কার হল অযৌক্তক অন্ধবিশ্বাস!এটি সাধারণত অজ্ঞতা থেকে সৃষ্টি হয়।যা আজানা কোন কিছুকে লোকমুখে শুনে তারপর বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে তা মেনে চলা।যেমন ভাগ্য, জাদু ইত্যাদি।এছাড়াও কুসংস্কার ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে উদ্ভূত।
কুসংস্কার শব্দটি একটা নির্দিষ্ট সমাজের অধিকাংশ লোকের দ্বারা ধর্ম অনুসরণ না করে ধর্মের কথা ব্যবহার করে এক নিম্ন ও সাধারণ শ্রেণীর মানুষকে ভয় দেখানো মানুষ থেকেই চলপ আসছে।তবে এর ধর্মের প্রথাগত অবস্থা থেকে এসেছে কওনা সন্দেহ।

এই কুসংস্কারের মাধ্যমে একদল তার প্রভুত্ত বজায় রাখতেই এই প্রথা চালু করে,যাতে তারা তাদের স্রষ্টার সমতুল্য জায়গায় রেখে অন্যদের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সব ধরণের প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করতে পারে।আর ঠিক সেটাই হয় ওই নিম্ন শ্রেণীর লোক তাদের কুসংস্কার মেনে চলে,তাদের প্রতি ভীত হয়ে সব কাজ সম্পাদন করে থাকে।

এটি সাধারণত ভবিষ্যদ্বাণী কিংবা আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং পূর্বের ঘটনার সাথে তুলনা করে মিল খঁজে নেয়ার মাধ্যমে মেনে নিতে বাধ্য হয়।

উৎপত্তিঃ কুসংস্কার এর উৎপত্তি ৫০শতাব্দীতে প্রথম ইংরেজীতে ব্যবহৃত হয়।এর জন্য ৪টি ইংরেজী শব্দ প্রস্তাব করা হয়েছিেল-(কেডিশিয়াস,সুপারস্টিশনস,বি গ্লুটোনস,বি প্রাউড।)ল্যাটিন শব্দে গঠনের ক্ষেত্রে সুপার স্টেচার অর্থাৎ”দাঁড়ানো বা বেঁচে থাকা” তে উন্নীত হয়।এটা ব্যাখ্যা করতে গেলে বিস্ময় বা আতঙ্কে দাঁড়িয়ে থাকা”বুঝায়।এছাড়াও অতিরিক্ত পুরাতন,ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস বা অভ্যাস ইত্যাদিতে অব্যাহত থাকে।

লোক কাহিনী ও লোকবিশ্বাস এবং ধর্মীয় মতানুসারেঃ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে কুসংস্কার কে লোকবিশ্বাস বা লোককথা বলে বিশ্বাস করতো।যার মাধ্যমে স্থানীয় কর্মকান্ডের পক্ষপাতিত্বের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।যেমন, একটি প্রতিশ্রুতি বাতিল করার জন্য “ক্রসিং আঙুল” বা যেটাকে ইংরেজীতে “ফিঙ্গার ক্রস” বলা হয়!এবং পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত ভঙ্গ করা যেত এবং ব্যক্তি কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে দাবি করত।
এছাড়া ঐ ধর্মের দোহায় দিয়ে নানা কুসংস্কার প্রথা চলে আসছে।যেমন কোন কিছু পাওয়ার জন্য যাদু মণ্ত্র কাজে লাগায় এবং এটি বৈধ বলে দাবি করে।
যা ধর্মকেও প্রভাবিত করে।

কুসংস্কার ও মনোবিজ্ঞানঃ১৯৪৮ সালে আচরঙগত মনোবিজ্ঞানী বি.এফ.স্কিনার একটি প্রবন্ধে প্রকাশ করেন যে তার পায়রা কিছু আচরণ করছে, একটি পায়রা খঁচায় খুরছে আর অন্যটি তার মাথা দিয়ে চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে,এটি শুধুমাত্র ঔষধ থেকে খাদ্য প্রাপ্তির প্রচেষ্টায় সঞ্চালিত হয়েছে।তিনি যন্ত্রের মাধ্যমে আচরণ পরীক্ষা করেন এবং যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যের বিরতির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।কবুতরের ওপর কাজ করে তিনি বুঝতে পারেন যে কবুতর বা পায়রা তাদের খাওয়ানোর উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

তারপর তিনি মানুষের কুসংস্কারের আচরণগত প্রকৃতি সম্পর্কে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
তাঁর কবুতরের এই পরীক্ষায় অন্ধবিশ্বাসী আচরণের তত্ত্ব কে চ্যালেন্জ সত্ত্বেও,শক্তিবৃদ্ধির সময়সূচীর ধারণাকে মানুষের মধ্যে অন্ধবিশ্বাসের আচরণকে ব্যাখ্যা করতেই ব্যবহৃত হয়েছিল।তার পরীক্ষায়”কিছু কবুতর উৎসাহের সময় ১০’০০০বার পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল যখন মূলত শক্তি বৃদ্ধির ভিত্তি ছিল।এই আচরণ নির্দিষ্ট সময়কাল বিলুপ্তির জন্য সবচেয়ে প্রতিরোধী ছিল যা মানুষের অন্ধ বিশ্বাসী আচরণে ব্যবহৃত হয়েছে।এর জন্য পরবর্তীতে  দুইজন বিজ্ঞানী তার ধারণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টটি র মাধ্যমে  কুসংস্কারের ধারণা দিতে চেয়েছিলেন।এছাড়াাও কোন কিছুর প্রতি অনুভূতি প্রকাশ পায় এই কুুুুসংস্কারের মাধ্যমে।

কুসংরস্কারের প্রভাবে মানুষর মাথা ব্যথা হলে সে সময় মাথার মধ্যে  পাথর দিয়ে ছিদ্র করা হত, এতে অশুভ   শক্তি বের হয়ে যায় এই ধারণায় এর মাধ্যমে চিকিৎসা প্রধানেরও চল ছিল বলে জানা যায়।

তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া!জানার ছিল তাই নিজেও কিছু জানলাম আর আপনাদেরকে সহজভাবে কিছুটা জানানোর জন্য চেষ্টা করলাম।যারা জানেন বা পড়েছেন ভালো কিন্তু যারা পড়েননাই বা জানেননা তাদের জন্যই মূলত এই পোস্টটি  !ঃ)

nispriho

আস্সালামুয়ালাইকুম। # Chittagong. #স্টুডেন্ট#ভালো লাগলেও জানান না লাগলেও কমেন্টে জানান#মানুষ মাত্রই ভুল#ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী 👧

৭ thoughts on “কুসংস্কারের আবদ্ধ জীবন

  • মার্চ ১৯, ২০১৯ at ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
    Permalink

    There is another thing called ‘cognitive believe’.

  • মার্চ ১৯, ২০১৯ at ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    ধন্যবাদ #Bilkis Rahaman আপুঃ)

  • মার্চ ২১, ২০১৯ at ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
    Permalink

    ঠিক ! আর আমাদের সবার উচিৎ সমস্ত কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসা।

  • এপ্রিল ৯, ২০১৯ at ৪:৫১ অপরাহ্ণ
    Permalink

    তথ্য গুলো জোগাড় করে, এখানে পোষ্ট করার জন্য।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।।

Leave a Reply