রিংকু

এক জোড়া জুতো কিনবো। জুতোয় সেলাই দিতে দিতে আর সেলাই দিবার জায়গাটাও নাই। জুতো আজ না কিনলেই নয়। হাটতে একদমি ইচ্ছে করছে না। তারপরেও হাটছি। মাঝে মাঝে কিছু করতে ইচ্ছা না করলে সেটাই বেশি করে করি! পিছন থেকে কেও একজন আমার শার্ট টা ধরে হেচকা একটা টান দিলো। খুব রাগ নিয়ে পিছে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি একটা পিচ্চি ছেলে। একটা লাল রঙের সেন্ডু গেঞ্জি গায়ে এবং একটা কালো রঙের হাফ পেন্ট। ওর সাইজ অনুযায়ী আমার রাগ টা তুলনামুলক বেশি হয়ে গেছে। তাই একটু রাগ টা কমিয়ে নিলাম। অর্থাৎ ওর সাথে যতটুকু রাগ করা উচিত তত টুকুই রাগ রাখলাম! ছোট খাটো ধমক দিয়ে জিগেস করলাম,
-কি হয়েছে?
-ভাই টাকা। (নরম কন্ঠে ডানহাত টা প্রসারিত করে)
আমি ওর নরম কন্ঠ সুনে আর চিল্লাতে পারলাম না। তাই আমিও নরম কন্ঠেই বললাম,
-কেনো? তোকে টাকা কেনো দিব?
-খিদা লাগছে।
-কার?
-আমার, ছোট ভাই আর আমার মা’য়ের।
-তো আমি কি করব?
-সাহায্য করবেন।
ওর প্রত্যেকটা কথা আমার শুনতে খুব ভালো লাগছিল! তাই ইচ্ছে করেই ওকে বেশি কথা বলাচ্ছিলাম। কিন্তু ও খুব সহযেই সব উত্তর গুলো দিচ্ছে। যেন আমরা দুজন যাত্রা পালায় নাটক করছি।
-তোর কাছে টাকা নাই? -১০ টাকা আছে।
-মিথ্যা বলবিনা। আমি মিথ্যা পছন্দ করিনা! কত টাকা আছে বল?
(ছেলেটা চুপ করে আছে)
-তোর কাছে ছাপ্পান্ন টাকা আছে, তাই না?
ছেলেটা বড় বড় চোখ করে আমার দিকে চেয়ে থাকল, আর একটু ভয় ভরা চখে বলল
-আপনি কেমনে জানলেন?
-আমি জানতে পারি। আমি জাদুকর(যদিও মিথ্যা কথা, আন্তাজে বলেছি ভেবেছিলাম ও অবাক হবে, কিন্তু ও আরো সাভাবিক হয়ে গেল। যেন ও প্রায়ই জাদু খেলা দেখে!)
-মিথ্যা বললি কেন?
-মিথ্যা না বললে কেও টাকা দেয় না, আপনেই কন এই কয় টাকায় সারাদিন খায়া থাকা যায়?
-তোর নাম কি?
-রিংকু
-বাবা কি করে?
-নাই
-মা?
-মাইনষের বাসায় কাম করতো। অনেক অসুখ, তাই কাম করতে পারেনা!
-কয় ভাই বোন?
-দুই ভাই। ভাই ছোট।
-তোর বয়স কত?
-মায়ে কয় ৯ বচ্ছর।
-আমাকে তোর বাসায় নিবি?
-না মায়ে আমারে মারবো।
-তাহলে কিন্তু টাকা দিবোনা!
(ছেলেটা চুপ)
-১০০ টাকা দিব।
-লাগবনা!
-কত লাগব?
-১০ টাকা
-তাহলে হবে?
-হ।
-এই নে ২০ টাকা!
(ছেলেটির চোখ খুশিতে জলজল করল)
-না ১০ টাকাই দেন!এই টেকা পরে আপনের কামে লাগব।
(ওর এই কথা সুনে আরো ৩০ টাকা বের করে দিলাম।)
-এই নে ৫০ টাকা। আর শোন তুই প্রতিদন এই জায়গায় সন্ধ্যা ৭ টা বাজে দাড়ায়া থাকবি ৮ টা পর্যন্ত।
-জি।
ছেলেটা নাচতে নাচতে চলে গেল।….

Sarwar

I'm student.

৬ thoughts on “রিংকু

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ১১:২১ অপরাহ্ণ
    Permalink

    পরে খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
    Permalink

    শুনে খুব খুশি হলাম। আপনারা উৎসাহ এবং সহযোগীতা করলে আরো ভাল লিখবো ইনশাল্লাহ।

  • মার্চ ১৮, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    অসাধারন লিখেছেন ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ এরকম একটা বিষয় তুলে ধরার জন্য। প্রত্যেকের উচিৎ এই রকম অসহায়ের পাশে দাড়ান।মানুষ বর্তমান এত ব্যাস্ত যে তারা অসহায়ের পাশে থাকবেতো দূরের কথা কিছু দিয়ে সাহায্য করবে সেটা তাদের লজ্জা লাগে।এট মোটেও ঠিক না। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেকের হক আদায়ের তৌফিক দান করুন।

  • মার্চ ১৮, ২০১৯ at ৯:১৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    রিংকুকে দেখে ভার্সিটির মনিরুলের কথা মনে পড়ে গেলো।

  • মার্চ ১৯, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    ধন্যবাদ #Samad ভাই! আপনি একদম ঠিক বলেছেন। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ততার জীবন থেকে যদি ৫ মি. বেড় করে সময়টা কোনো অসহায় মানুষকে দেই। হতে পারে সেই মাত্র ৫ মি. অসহায় ব্যক্তির জন্য ১ দিনের খুশি বয়ে আনবে! আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুক! আমিন।

Leave a Reply