প্রতিটা দিন (২য় পর্ব)

-নীল অনেকের হাতে অনেক কিছুই খাইছোছ। আজকে আমার হাতের টা খায়া দেখ। পাগল হয়া যাবি।

-হাহাহা… তুই প্রতেক বার একি ডায়ালগ দেছ।

-আজকে খায়াই দেখ।

-দে দেখি। অনেকদিন হয়া গেছে খাই না। আজকে এইটার দরকার আছে।

 

(১০ মিনিট পর)

-দোস্ত। পানি আনা। গলা শুখায়া কাঠ হয়া যাইতাছে।

-হ রে, দাড়া, পানি আর কোক আনাই।

-দোস্ত খাওয়ার কিছু আনাইছ। খুব খুদা লাগতাছে।

-আচ্ছা।

 

-আচ্ছা আলভি তুই এতো ভাল গান পাছ কইরে?

-হাহা.. এখন সব গানই ভাল লাগবে।

-না তার পরেও।

 

এইভাবেই কাটতে থাকল সময়। সত্যি গান গুলো খুব ভাল লাগছিল। গান গুলো আমার মত অগুছালো। মনে হচ্ছিলো যেন গানের সাথে সাথে আমি আকাশে ভাসছি। সময় ও দেখতে দেখতে যাচ্ছিলো। অকারণেই দুই জন হাসছিলাম। হাসি যেন থামছিল না। ভালই লাগছিলো হাসতে। হাসতে হাসতে মনে পরল আমার বাসায় যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। স্টুডেন্ট আসবে পরতে। আমি আলভি কে বলবো যে, দোস্ত আমার যেতে হবে। কিন্তু কেনো যানি আমি কথা টা বলতে পারছিলাম না। শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে। নড়তেও পারছি না। ওর দিকে তাকালাম। ও চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করে বসে আছে। আমি ওকে ডাকলাম। ও কোনো উত্তর দিলোনা। আমার আওয়াজ ওর কান পর্যন্ত যায়নি নাকি ওর শুনার মত সামর্থ্য টাও নেই, তা বুঝতে পারছি না। দেখতে দেখতে ৪ টা বেজে গেছে। ৪:৩০ এ আমার স্টুডেন্টরা আসবে। আমি উঠে দারালাম অনেক কষ্টে। বললাম যে আমার যেতে হবে। ও এবারো কোনো কথা বলল না। কিন্তু এবার ও ঘার নেড়ে আমাকে যাওয়ার জন্য সম্মতি দিল। আমি বুঝতে পারলাম। ও অন্য দুনিয়ায় থাকতে চায়। তাই আমি আর কিছু না বলে বাসায় যেতে শুরু করলাম। মনে হচ্ছিলো পথ শেষ হচ্ছিলো না। বার বার ভাবছিলাম আমার বাসার কাছা কাছি এখনো আসিনি! খুজছিলাম নিজের বাসা পুরো রাস্তায়। নাহ সত্যি আজকে ভালো বানিয়েছিলো। আগে কখনো এতটা হাড়িয়ে যাইনি। ও সফল হয়েছে।

 

ভাবতে ভাবতে একাই হাসতে শুরু করলাম। আবার হঠাৎ হাসি থামিয়ে দিলাম এই ভেবে যে, আমিতো রাস্তায়। মানুষ দেখলে কি বলবে? ভাব্বে নীল মনে হয় এইবার সত্যি সত্যি পাগল হয়েছে। হাহা… আমি তো সত্যি পাগল হয়েছি।

 

বাহ বাসায় চলে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে আসলাম! দেখি কতখন লাগলো। বাহ ৬ মিনিট লেগেছে। কিন্তু মনে হচ্ছিলো ১ ঘন্টা ধরে হাটছি। সকালে এত তাড়াতাড়ি আলভির বাসায় গেলে হয়তো বন্ধু আমার অবাক হয়ে যেত! হাহা….

 

কখন শুয়ে পড়েছি যানিনা। মনে হচ্ছে আমার স্টুডেন্টরা চলে এসেছে। হ্যা দরজায় নক করা হচ্ছে। দরজা কি খুলবো? না খুললে ভাব্বে ঘুমিয়ে আছি। বা অসুস্থ। তখন চলে যাবে। পড়াতে আজ ইচ্ছে করছে না। আর ইচ্ছে করলেও হয়তো পড়াতে পারবো না। কি বা পড়াবো! আবল তাবল? ওরা যদি আমার চোখ লাল দেখে? ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে ফেলেছি।

-কি ব্যপার ভাইয়া দরজা খুলতে এতো সময় লাগলো কেন? বাথরুমে ছিলেন?

-হ্যাঁ

-নাহ রাকিব ভাইয়ার মনে হয় শরীর ভালো না।

-হ্যা রাবিনা ঠিক বলেছে। আমার শরীর টা ভাল না।

-ভাইয়া আমি রাবিনা না। আমি রিয়া।

-ও হ্যাঁ রিয়া।

-পড়াবেন আজকে?

-হ্যা পড়াবো। বস তোমরা।

(কি ব্যাপার আমিতো পড়াতে চাইনি।)

-ভাইয়া আগে কি পরাবেন?

-গণিত বের কর।

-করছি।

-৭ নং অংক টা কর।

 

আচ্ছা আমি কি করতাছি? ওরা কিছু বুঝতে পারে নাই তো? কি বা বুঝবে ওরা ছোট মানুষ। কিন্তু আমি চাইলে ছুটি দিয়ে দিতে পারতাম। থাক পড়াই।

-ভাইয়া শেষ।

-হ্যা? ও শেষ? আচ্ছা আমার শরীর টা খুব খারাপ লাগছে। তোমাদের ছুটি।

-সত্যি ভাইয়া ছুটি?

– হ্যাঁ।

– ইয়ে কি মজা! থেংক ইউ ভাইয়া!

কি ব্যাপার! ছুটি পেয়েতো আমার থেকে ওরাই বেশি খুশী।

 

ঘুমাতে হবে। খুব ঘুম পাচ্ছে। খুদা ও লেগেছে। এইদিকে একটা হোটেল এ ৭০ টাকায় গরুর কাচ্চি পাওয়া যায়। শুনিছি অনেক মজা হয়। যাই খেয়ে আসি। কাপড় টা কি পাল্টাবো? নোংড়া হয়ে গেছে। আজকে তো গোসল ও করলাম না। থাক আজকে করতে হবে না। কালকেতো মনে হয় করছিলাম।

 

(অসমাপ্ত)

 

প্রথম পর্ব পড়তে এই লিংক এ যান-

Sarwar

I'm student.

Leave a Reply