প্রতিটা দিন(৩য় পর্ব)

(হোটেলে)

-মামা কি খাবেন??

-গরুর কাচ্চি দাও।

-মামা গুরুর কাচ্চিতো নাই শেষ হয়া গেছে।

-তাইলে কি আছে?

-ভাত আছে শুধু। আর মুরগির মাংস আর ডিম তরকারি।

-তাইলে ভাতই দাও। আর ডিম তরকারি দাও। খাবার টা আজকে খুব স্বাদ লাগছে। শুধু ভাত না, পানিতেও খুব তৃপ্তি লাগছে।

 

খাওয়া শেষ। হাত ধুয়ে চলে যাচ্ছিলাম।

-ভাই ও ভাই টাকা দিবেন না?

-ওহ টাকা দেই নাই?

-কখন দিলেন। খায়া দায়া তো নোয়াখাইল্লাগো মত হাটা দিছেন।

-দিতাছি ভাই। মনে ছিলো না।

– এই বয়সে মন হারায়া ফালাইছেন? দেন টাকা দেন।

 

টাকা দিয়ে অর্ধেক রাস্তায় এসে পরেছি। ভাল কথা! আমি দোকান্দারকে দিছি ১০০ টাকার নোট৷ বিল হয়েছে ৫৫ টাকা। বাকি টাকা তো দেয় নাই। কিন্তু আমিতো নিতে ভুইলা গেছি। তাতে কি! যখন বিল দিতে ভুইলা গেছি তখন তো ঠিকি ডেকে বিল নিছে সাথে ফাও কথা ও শুনাইছে। এখন দেওয়ার বেলায় কেনো ডেকে দিবে না! কথা তো এখন তাকেও শুনতে হবে! যাই আবার।

-ভাই আমি আপনাকে কত টাকা দিছিলাম?

-ভাই মনে নাইতো। কত কাস্টমার আসে। সবতো মনে রাখা যায় না।

-বিল কত হইছিলো আমার মনে আছে?

-৫৫ টাকা।

-বাহ, এইবার সি.সি. ক্যামেরা টা চেক করেন। আমি আপনারে ১০০ টাকা দিছি।

-অহ ভাই হ মনে পরছে।

-আচ্ছা তাইলে আপনি আমাকে বাকি টাকা দেন নাই কেন? টাকা হাতে পাইছেন আর বরিশাইল্লাদের মত পল্টি মারা শুরু করছেন?

-নাহ ভাই মনে আছিলো না।

– হ্যাঁ এই কথাটা তো আমিও বলছিলাম। ভুইলা গেছেন? কিন্তু আপনিতো ঠিকি কথা শুনায়া দিছেন। সুযোগ পাইলেই বলতে ইচ্ছা করে??

-ভাই ভুল হইয়া গেছে।

-ঠিক আছে এইবার টাকা টা দেন।

 

বাসায় এসে পরছি। লোকটাকে ভালই শিক্ষা দিলাম। কাওকে কিছু বলার আগে চিন্তা করেনা। এখন বুঝেছে। কিন্তু ৬ টা বেজে গেছে। কথা কে পড়াতে যাওয়ার কথা। কিন্তু একদমি ইচ্ছা বা শক্তি কোনোটাই নাই। ঘুমাতে হবে আমার।

 

ফোনের শব্দে ঘুম ভাংলো। কথার মা ফোন দিয়েছে। ওকে রেগুলার পড়ানো হয় না। গতকালকেই আমাকে বলে দিয়েছিল আর একদিনও যেন ফাকি না দেই। কিন্তু আজকেও ফাকি দিয়ে দিলাম। আর মনে হয় না এই স্টুডেন্ট টা হাতে থাকবে। পড়াতে কি যাবো? ৮ টা বেজে গেছে। না থাক যাবো না।

 

আবার ঘুমিয়ে পরেছিলাম। কয়টা বাজে? রাত ১ টা বাজে। কি করবো এখন। এখন তো নিজেকে স্বাভাবিক লাগছে। মাথা এখন আর ঝিম ধরে নেই। ঘুম ও তো নেই চোখে। সারদিন চিন্তা মুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন আবার সব চিন্তা মাথায় জড়ো হতে শুরু করেছে। তাহলে কি আজ রাতেও প্রতি রাতের মত এ কাত থেকে ও কাত হয়েই কাটাতে হবে? কি করবো এখন? কি আর করবো! প্রতিদিনের মত লিখতে বসব। সেই লেখা গল্প হয়ে যাবে। আমার গল্পের পাঠকরা খুব আনন্দ সহকারে গল্প পড়বে! কিন্তু আসলেই কি এটা গল্প? নাকি আমার জীবনের সাথে জড়িত হাসি, কান্না, বেদোনা, আর আবেগ দিয়ে ভড়া প্রতিটা দিন!

 

(সমাপ্ত)

প্রথম পর্ব পড়তে এই লিংক এ যান-

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এই লিংক এ যান-

 

Sarwar

I'm student.

৪ thoughts on “প্রতিটা দিন(৩য় পর্ব)

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ২:০৮ অপরাহ্ণ
    Permalink

    সুন্দর। ভালো লাগল।

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ৮:১২ অপরাহ্ণ
    Permalink

    অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের উৎসাহ আমাকে আরো ভাল লিখতে সাহায্য করবে!😊

Leave a Reply