বিবাহ বিচ্ছেদ

আজকাল প্রেম ভালবাসা করাটা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এবং ছেলেমেয়েদের একসাথে চলাফেরা করার প্রেক্ষাপটে অনেকটা সহজ হয়েগেছে ৷ আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের খোজখবর ঠিকমত বাবা-মায়েরা নিতে পারেন না আর অনেকে ইচ্ছে করে নিতো চান না ৷ আজকাল অনেকের ধারনা যে এস.এস.সি পাশ বা এইচ.এস.সি পাশ করার পর সন্তানদের বড় মনে করেন যে তারা নিজেদের কাজ নিজেরা করতে পারবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এক্ষেত্রে পিতামাতার ধারনাটা একেবারে ভূল ৷ অনেক সময় সেই ছেলেমেয়েরা ভুল কাজ করে ফেলে এবং দেখা যায় তারা সোস্যাল মিডিয়া বা রিয়েল লাইফে প্রেম ভালবাসা বা রিলেশনসিপ তৈরি করে ছেলেমেয়েরা যা অপ্রাপ্ত বয়স্ক রিলেশন ৷ এসব রিলেশন থেকে ছেলেমেয়েদের অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়ে দেন সেটা হোক ছেলে বা মেয়ে সম্মান রক্ষায় পিতামাতা তাদের সন্তানদের বাল্য বিবাহ দিয়ে থাকেন ৷ বেশির ভাগ মেয়েদের ক্ষেত্রে বিবাহপূর্বক অন্তসত্বা বা গর্ভবর্তী হওয়ার কারনে অথবা মেয়ের জন্য ভবিষ্যতে ভাল পরিবারের পাত্র না পাওয়ার আশংকায় মেয়েদের দ্রুত বিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় ৷ আজকাল এবাবে বিবাহ দেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু এসব বিবাহের স্থায়ীত্ব বেশি দিন টিকে না যা শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স এ পরিনিত হয় আমাদের দেশে এখন বিবাহ করার চেয়ে বিবাহবিচ্ছেদ এর পরিসংখ্যান বেড়ে গেছে যা বলা চলে অনেকটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে যা আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য মোটেও আর্শিবাদ স্বরুপ নয় ৷ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের কারনে ব্রোকেন ফ্যামালির সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে ৷ অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী মধ্যে বোঝাপরা বা মিচ্যুয়াল আনডারস্টান্ডিং না হওয়ার ফলে স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স নিতে বাধ্য হন ৷ একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যেসকল বিষয়ের কারনে ডিভোর্স হয় সেগুলো বেশির ভাগই অতি ক্ষুদ্র বিষয় হয়ে থাকে৷ যেমন – স্বামীর বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করার কারণে, স্ত্রীকে বিলাস বহুল গাড়ি কিংবা গহনা না কিনে দেওযার কারণে, স্ত্রীকে ঠিকমত সময় না দেওয়ার কারণে, স্বামীর বোন বা মায়ের সাথে ঝগড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকসময় স্ত্রী ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন৷ এছাড়া স্বামী-স্ত্রীদের উভয়ের পরকীয়ার প্রেম ভালবাসার কারণে ডিভোর্স হয়ে থাকে ৷ আর আমাদের দেশে অনেক পরিবার আছে যারা কিনা এসব সামান্য বিষয় বাদে বিশাল বিশাল পারিবারিক অশান্তি বা ঝামেলাতে আছেন কিন্তু তারা কোন দিনই ডিভোর্সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন না বরং তারা পরিবারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, এসব পরিবার সাধারনত নব্বই দশকের দিকে শুরু হওয়া পরিবার তাদের কথা বলছি ৷ কিন্তু এসব পরিবারের বিপরীতে আছে এখনকার সময় ডিজিটাল বাংলাদেশের তৈরি হওয়া আধুনিক পরিবার গুলো যাদের বেশির ভাগ প্রেম বা বিয়ে হওয়ার পরিচয় ঘটে ফেসবুক ও অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ার সাহায্যে এসব সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেসব সম্পর্কের স্থায়ীত্ব বেশি দিন থাকছে না সেই সাথে ডিভোর্সের প্রচলন এতই বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে যার প্রভাব সেলিব্রেটি মহলেও ডিভোর্সের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এখন ডিভোর্সের বা বিবাহ বিচ্ছেদের সৃষ্টি হচ্ছে অনেক সহজভাবে ৷ এসব বিবাহ বিচ্ছেদ তখনই বন্ধ হবে যখন একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সম্পর্ক শক্ত মজবুত হবে এবং তাদের পারিবারিক আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং একে অন্যকে বুঝতে চেষ্টা করবে অর্থাৎ স্বামী যেমন স্ত্রীকে বুঝার চেষ্টা করবে স্ত্রী ঠিক তাই করবে সেই সাথে স্বামী-স্ত্রীর বাবা-মা তারাও যখন তাদের ছেলের বউ বা মেয়ের স্বামীকে ভালভাবে মূল্যায়ন করবে ৷ সেই সাথে বাল্যবিবাহ ও দ্রুত বিবাহ পথা হ্রাস পাবে এবং বিবাহ পরবর্তী অন্য পুরুষ ও নারীর সাথে প্রেম করা বা পরকীয়া প্রেম করার প্রচলন বন্ধ হবে ৷ তখনই এসব বিবাহ বিচ্ছেদের মাত্রা কমে আসতে পারে বলে আশা করছে বিশেষজ্ঞরা ৷

Sumon

আমি একজন ছাত্র, আমার শখ লেখা এবং যখন আমি অবসর সময় পাই সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করি কিংবা, জাতীয়, শিক্ষামূলক বা, যেকোন বিষয় নিয়ে বাংলায় লেখালেখি করি

৭ thoughts on “বিবাহ বিচ্ছেদ

  • মার্চ ১৩, ২০১৯ at ১১:৪২ অপরাহ্ণ
    Permalink

    দয়া করে লেখাটি ফেসবুক, গুগল প্লাস, অন্য সকল সোস্যাল মিডিয়া শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল। এতে করে অন্যরা লেখাটি পড়তে পারবে।

  • মার্চ ১৪, ২০১৯ at ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    ছাত্র হিসেবে বিয়ে না করেও এত কিছু জানেন!!!!

  • মার্চ ১৪, ২০১৯ at ৮:০৭ অপরাহ্ণ
    Permalink

    সব কিছু জানতে বিয়ে করার প্রয়োজন পড়ে না। আশে পাশে খোঁজ খবর রাখলে অনেক কিছু জানা যায় এবং শিক্ষা নেওয়া যায়।

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ১:১৫ অপরাহ্ণ
    Permalink

    খুবই ভাল,,,,কিছু বিষয় জানা হলো।

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
    Permalink

    খুব ভাল একটা বিষয়। ধন্যবাদ।

Leave a Reply