ইসলামের পরিভাষা ফরজ সম্পর্কে কতটুকু জানেন??

ইসলামের পরিভাষা ফরজ সম্পর্কে কতটুকু জানেন??

বাংলাদেশের ৯০.৪% মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও এই ধর্মীয় বিষয়ে অনেকেই উদাসীন। অনেকেই বলতে পারে না সঠিক ভাবে যে কোনটা ফরজ কাজ , কোনটা ওয়াজিব আবার কোনটা নফল ।

আস্সালামু আলাইকুম,
আমি আসিফ আমান জিহাদ আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ইসলামের শরিয়তের পরিভাষা ফরজ সম্পর্কে একটা আর্টিকেল নিয়ে । এই আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনি বলতে পারবেন ফরজ কি, ফরজ কত প্রকার এবং কোন কাজ গুলো ফরজ কাজ । চলুন দেরি না করে জেনে নেই ,

ফরজ

ফরজ একটি আরবি শব্দ । এর অর্থ হলো অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যকীয় । শরিয়তের যে সব বিধান কুরআন(আল্লাহর কালাম)- সুন্নাহর(মহানবির বাণী ও কাজ) অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয়(যা লঙ্ঘন করা যাবে না) বলে প্রমাণিত হয় তাকে ফরজ বলে।

ফরজ কাজ কোনো অবস্থাতেই বাদ বা ত্যাগ করা যায় না । ফরজ কাজ অস্বীকার করলে ইমান থাকে না বরং এর অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যায়(কাফির মানে হলো, যে ব্যক্তি কুফরি করে তাকে কাফির বলা হয় ) । ফরজ কাজ না করলে বা পালন না করলে কবিরা গুণাহ বা মারাত্মক পাপ হয়। ফরজ কাজ না করলে আখিরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে ।

ফরজ ইবাদত পালন করা যে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইহা না পালনে যে শাস্তির বরং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা আছে তা বুঝা যায় । ফরজ কাজ দুই প্রকার। এগুলো হলো :

  1. ফরজে আইন
  2. ফরজে কিফায়া

এখন চলুন এই প্রকারভেদ গুলো সম্পর্কে একটু জানে নাই ,

ফরজে আইন

যে সকল ফরজ কাজ বা বিধান সকলের উপর পালন করা(সকল মুসলিমের উপর) অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে । অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ বা বিধান ব্যক্তিগত ভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় সেগুলোকে ফরজে আইন বলা হয়। যেমন – দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা , রমযান মাসে রোযা রাখা এসব কাজ বা বিধান প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয় । এগুলো ফরজে আইন। যাকাত প্রদান ও হজ্জ পালন করা সবার উপর ফরজ নয় । এগুলো ব্যক্তিবিশেষে ফরজ( এই বিষয়ে পরবর্তী পোস্টে জানানো হবে)

ফরজে কিফায়া

ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিক ভাবে ফরজ কাজ । অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের উপর ফরজ , কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে পালন বা আদায় হয়ে যায়। কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি লোকদের আদায় হয়ে যায় অর্থাৎ বাকি সবাই সেই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয় । তবে যদি সমাজের কেউ ই আদায় না করে তাহলে উক্ত সমাজের সবাই গুণাগার হবে এবং সবাইকে শাস্তি পেতে হবে । যেমন – জানাযার সালাত । কোনো ব্যক্তি মূত্যুবরণ করলে ঐ এলাকার সবার উপর তার জানাযার সালাত আদায় করা ফরয হয়ে যায় । এ পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি তার জানাযার সালাত আদায় করে ফেলে তাহলে উক্ত এলাকার বাকি সবার আদায় হয়ে যায় অর্থাৎ তারা এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পায় । কিন্তু যদি কেউই ঐ মৃত ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় না করে তবে সকলেই ফরজ ত্যাগের কারণে গুনাহগার হবে।

আশা করি ফরজে কিফায়া কি বুঝতে পেরেছেন।

 

আমি আশা করি আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের ফরজ কি, কাকে বলে, কত প্রকার ও কোন কাজ গুলো ফরজ তা বুঝাতে পেরেছি । কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন আমি বুঝানোর চেষ্টা করবো । তথ্য গুলো নবম- দশম শ্রেণির “ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা -২০১৭) থেকে নেয়া হয়েছে ।

আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোনো মতামত, পরামর্শ, ভুল পেলে তা কমেন্টে জানিয়ে দিবেন আমি তা ঠিক করে নেয়ার চেষ্টা করবো । ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন ।

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া

ধন্যবাদ

Asif Aman Jihad

আমার নাম আসিফ আমান জিহাদ । আমি একজন ছাত্র । আমি আমার কাজ কথা লেখার মাধ্যমে সর্বদা চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাড়াতে তাদের সাহায্য করতে ধন্যবাদ

৮ thoughts on “ইসলামের পরিভাষা ফরজ সম্পর্কে কতটুকু জানেন??

  • মার্চ ১১, ২০১৯ at ৭:২৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ

    • মার্চ ১১, ২০১৯ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
      Permalink

      আপনাকেও ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য

  • মার্চ ১১, ২০১৯ at ৯:২১ অপরাহ্ণ
    Permalink

    ৯২ শতাংশ মুসলিম- এই তথ্যটীর উৎস কি ?

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ৭:৫১ অপরাহ্ণ
    Permalink

    খুব ভাল একটা বিষয়। ধন্যবাদ।

    • মার্চ ১৮, ২০১৯ at ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
      Permalink

      ধন্যবাদ আপনার অভিভত জানানোর জন্য

Leave a Reply