আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আসসালামু আলাইকুম,

বিশ্ব নারী দিবসের এই দিনে আজকে আমি নারী দিবস নিয়ে একটি লেখা নিয়ে এসেছি। এখানে থাকছে নারী দিবসের পটভূমি, ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা।

পটভূমিঃ

অনেকেই আমরা পটভূমি ও ইতিহাসকে এক বলে মনে করি। কিন্তু পটভূমি আর ইতিহাস এক নয়। পটভূমি হলো যে ঘটনার উপর ভিত্তী করে ইতিহাসের সৃষ্টি। ইংরেজিতে যাকে Background বলা হয়। আর ইতিহাস বা HISTORY  হল ঘটনাপ্রবাহ।

নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করার ভিত্তি আসে সমাজতন্ত্র থেকে।বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে সমতার বার্তা পৌঁছানো হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্যের পাশাপাশি নারী পুরুষের সমতার বিষয়টিও উঠে আসে। এই সমতার পিছনে যৌক্তিক ও জোরালো দাবি ছিল নারীর অবদানকে স্বীকার ও মূল্যায়ন করা। তাছাড়াও নারীর কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার (যা আসলে কোনো কাজকেই ছোট মনে না করা) মাধ্যমে সমাজে সম্মানের জায়গা প্রতিষ্ঠা করা।

 

ইতিহাসঃ

সমাজতন্ত্রের হাত ধরেই নারী দিবসের উদযাপন শুরু অর্থাৎ Socialist Party of America  সর্বপ্রথম ১৯০৯ সালে নারী দিবস উদযাপন করে । এরপরের বছরেই ‘আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন’ ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ১৭ টি দেশ নারী অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক ভাবে সর্বপ্রথম নারী দিবস উদযাপিত হয়। তবে ১৯১৪ সালের ৮ মার্চ রোজ রবিবার ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপিত হয় এবং পশ্চিমা বিশ্বে রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ওই দিনকেই নারী দিবসের জন্য নির্দিষ্ট করা হয় । এরপর থেকে প্রতিবছর ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে।

 

বর্তমান বাস্তবতাঃ

বর্তমানে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নারী অধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে কর্মক্ষেত্র সহ সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার দাবি করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন যার মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল যে আমেরিকায় নারী দিবসের সূচনা সেখানেই নারী ক্ষমতায়ন তেমনভাবে দেখা যায় না। বাংলাদেশ, ভারত , পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা ইন্দোনেশিয়া নারী প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি অনেক আগে নির্বাচিত হলেও আজও আমেরিকায় একজনও নারী রাষ্ট্রপতির দেখা মিলেনি। আবার এর চরম প্রভাবও রয়েছে ।যেমন সমগ্র বিশ্বের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ দেশ জাপানে সবক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর উপস্থিতির হার প্রায় সমান। কারণ ক্যারিয়ারের প্রতি নারীরা অত্যধিক মনোযোগ দিচ্ছে। তাই এরা বিয়ে করছে না। ফলে জাপানের জন্মহার মৃত্যুহারের চেয়ে কম অর্থাৎ তাদের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে হলেও কমছে।
উন্নত দেশের মানদন্ড কি হওয়া উচিত? অর্থনীতি, শিক্ষা নাকি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জাপানের মানুষের যন্ত্র হয়ে যাওয়াটা নারী অধিকার ও সম্মানের প্রতি এক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আমার লেখাটি কেমন লাগল তা কমেন্ট করে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।

(তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া  ও গুগল ডুডল )

 

Hasina Chowdhury

I am a teacher from Dhaka. Completed B.A. B.Ed. from National University and Advanced Course o Research Methodology from University of Dhaka. I love to study,discuss and write on different topics.

৬ thoughts on “আন্তর্জাতিক নারী দিবস

  • মার্চ ৮, ২০১৯ at ৩:২৪ অপরাহ্ণ
    Permalink

    ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ। অনেকেই নারী দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না।তারা এই লেখাটির মাধ্যমে এটা জানতে পারবেন।

  • মার্চ ৮, ২০১৯ at ৭:২৪ অপরাহ্ণ
    Permalink

    আমার জানা মতে, জাপানে নারীদেরকে বেশি বড় পজিশন এ জব করতে দেয়া হয়না। উঃ কোরিয়ায় চাকরিক্ষেত্রে নারীরা যৌন নিরযাতনের স্বীকার হচ্ছে। আমার মনে হয়, নারী অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে।

    • মার্চ ৮, ২০১৯ at ১০:০৭ অপরাহ্ণ
      Permalink

      আমি এখানে উপস্থিতি বলতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মোট হার বুঝিয়েছি। পজিশন অনুযায়ী ব্যতিক্রম হওয়াটা স্বাভাবিক।

  • মার্চ ৮, ২০১৯ at ১১:২৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    সত্যি তথ্যবহুল একটা পোস্ট । ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পোস্ট করার জন্য

  • মার্চ ১০, ২০১৯ at ২:৫১ অপরাহ্ণ
    Permalink

    আপনার লেখাগুলো ভালো হয় অনেক

Leave a Reply