আমাদের নতুন প্রজন্ম কি শিখছে?

কোন দিকে যাচ্ছে আমাদের প্রজন্ম তা একটু গভীর ভাবে চিন্তা যদি করেন তাহলে বুঝতে পারবেন ৷ আমাদের অধিকাংশ যুব সমাজ সারাদিন সোস্যাল মিডিয়াতে সময় ব্যয় করছে যা কিছুটা ভাল হলেও তার অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারন ৷ এখনকার শিশুরা জন্মের পরই স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ কম্পিউটার দিয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে সেক্ষেত্র দেখা যায় শিশুদের বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে বিশেষ করে অন্ধত্ব বা চোখে কম দেখা । বাচ্চা বা শিশু বয়স থেকে যাদের কৃত্রিম আলোয় রাখা হয় যেমন – স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারের আলো ব্যবহারের ফলে শিশু বয়সে তাদের প্রচুর চোখের ক্ষতি হচ্ছে যার ফলে আমরা রাস্তায় বা শপিং মলে দেখতে পাই ছোট ছোট শিশুদের চোখে চশমা পরিহিত অবস্থায় যা আমাদের মোটেই কাম্যকর ছিল না ৷ আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশু কিশোর ,যুবক-যুবতী , সবার হাতে এখন লক্ষ করলে দেখা যায় স্মার্ট ফোন ৷ যেই বয়সে শিশু বাচ্চার পুতুল খেলার কথা বা মাঠে গিয়ে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার কথা সেই বয়সে সবার হাতে এখন স্মার্ট ফোন ,মোবাইল গেইম বা কম্পিউটার গেইম খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে যা কোন মতে সঠিকভাবে শিশুদের বেড়ে ওঠার পথ নয় ৷ আমাদের দেশের অধিকাংশ জমি হয়ে যাচ্ছে বে-দখল যার ফলশ্রুতিতে শিশু-কিশোর হারাচ্ছে খেলার জায়গা ৷ আমাদের দেশের বেশির ভাগ জমি নিয়ে যাচ্ছে বিল্ডাস কোম্পানি বা রিয়েলস্টেট কোম্পানি গুলো তারা মূলত এসব জমি নিয়ে বড় বড় এ্যাপাটমেন্ট তৈরি করছে কিন্তু সেই এ্যাপাটমেন্টে কি তারা শিশুদের জন্য কোন একটা প্লেস করে দিচ্ছে প্লে-গ্রাউন্ড হিসেবে ৷ যদি দিত তাহলে অবশ্যই শিশুদের সঠিক মেধাবিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হতো একটি শিশু যত বেশি বাহিরের হাওয়া-বাতাসে বেড়ে উঠবে ততই তার মেধাবিকাশ হবে ৷ যে শিশুটি একটি সুন্দর প্লে-গ্রাউন্ড আজ পেল না সে তার প্লে-গ্রাউন্ড হিসেবে পেল তার বাবা-মায়ের দেয়া স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার আর প্লে-গ্রাউন্ড হিসেবে পেল ইন্টারনেট জগত এতে করে শিশুরা অদ্ভূত ভাবে বেড়ে ওঠে ৷ এভাবে অদ্ভূতভাবে বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েরাই মানসিকভাবে দূর্বল এবং অসুস্থ হয় যা ভবিষৎতের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয় ৷ পরবর্তীতে কিছু কিছু ছেলে-মেয়েরা যাদের বাবা-মা তাদের সময় দিতে পারে না তারা সবসময় একাকিত্ব জীবন যাপন করে তারা তখন সোস্যাল মিডিয়া বা অন্য কোন মাধ্যমে ভুল বন্ধু নির্বাচন করে ৷ সেই ভুল বন্ধুটি তাদের মাদকাসক্ত বা ড্রাগ এডিকট্রেট করে ফেলে এভাবে সৃষ্টি হয় আমাদের দেশের ভুল পথের শিশু বা ঐশি ৷ ঐশি কে? আমরা সবাই চিনি যারা নিউজ দেখেন ও পড়েন , এই ঐশি একদিনে তৈরি হয়নি সে এমনই বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্কহীনতায় ভোগা একটি মেয়ে, যে পরবর্তী ভুল বন্ধু নির্বাচন করে এবং সে তার বাবা-মা কে খুন করে যা ছিল তার কিছু বন্ধুদের ভুল দিক নির্দশনার হাত ধরে সে খুন করেছিল ৷ আমাদের কোন ভাবেই কাম্য নয় কারও সন্তান ঐশি বা ভুল পথের শিশু হোক ৷ আমাদের সকলের উচিত পরিবার হতে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেন আর কোন সন্তান ভুল পথে পর্দাপর্ণ না করে আর সকল বাবা-মা দের উচিত তাদের সকল শিশু এবং তাদের সন্তানদের সাথে বন্ধু সুলভ আচরন করা এবং সবসময় সন্তানদের খোঁজ খবর রাখা ৷ একজন বন্ধু-সুলভ পিতা-মাতাই পারে সন্তানকে আলোর পথে আনতে এবং একজন ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ।

Sumon

আমি একজন ছাত্র, আমার শখ লেখা এবং যখন আমি অবসর সময় পাই সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করি কিংবা, জাতীয়, শিক্ষামূলক বা, যেকোন বিষয় নিয়ে বাংলায় লেখালেখি করি

৯ thoughts on “আমাদের নতুন প্রজন্ম কি শিখছে?

  • মার্চ ৩, ২০১৯ at ৯:২৭ অপরাহ্ণ
    Permalink

    কথা গুলো সত্য, বর্তমানের শিশুদের জগত টা এই স্মার্ট ফোন , টেকনোলজির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে । যার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । অল্প বয়সে তাদের চোখে আসছে চশমা, তারা মানসিক বিকৃতি সহ নানা রোগে ভুগছে ।

    • মার্চ ৫, ২০১৯ at ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
      Permalink

      দয়া করে লেখাটি ফেসবুক, গুগল প্লাস, অন্য সকল সোস্যাল মিডিয়া শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল। এতে করে অন্যরা লেখাটি পড়তে পারবে।

  • মার্চ ৩, ২০১৯ at ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
    Permalink

    টেকনোলজি বা সোশাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণদের পাশাপাশি মাঝবয়সীরা করছে
    অতিরিক্ত নগরায়নের ফলে জীবনযাত্রার জায়গা সংকুচিত হওয়ায় এরূপ হচ্ছে

    • মার্চ ৫, ২০১৯ at ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
      Permalink

      দয়া করে লেখাটি ফেসবুক, গুগল প্লাস, অন্য সকল সোস্যাল মিডিয়া শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল। এতে করে অন্যরা লেখাটি পড়তে পারবে।

    • মার্চ ৫, ২০১৯ at ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
      Permalink

      দয়া করে লেখাটি ফেসবুক, গুগল প্লাস, অন্য সকল সোস্যাল মিডিয়া শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল। এতে করে অন্যরা লেখাটি পড়তে পারবে।

  • মার্চ ১০, ২০১৯ at ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
    Permalink

    সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে, অসচেতন বাবা মায়েদের চরমভাবে পস্তাতে হয় এক সময়!

  • মার্চ ১৭, ২০১৯ at ২:০২ অপরাহ্ণ
    Permalink

    খুবি ভালো বিষয়।

  • মার্চ ২৪, ২০১৯ at ৩:২৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    আপনি গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছেন

Leave a Reply